সোমবার, ২৭ মে, ২০১৩

মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীর মিল :
এই বিশ্ব পরিমন্ডলে মানুষই একমাত্র প্রাণী যাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। পৃথিবীতে রয়েছে বহু জাতের প্রাণীর স্তর। যার সেইসব প্রাকৃতিক প্রাণীদের সাথে মানুষের আচার-আচরণ, চালচলন ও চারিত্রিক গুনাগুন মিল রয়েছে অন্যান্য প্রাণীর সাথে যুগপৎ ভাবে।  তাই এই পর্বে আলোচনা করবো মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীদের সাথে মিলগুলো খুঁজতে গিয়ে আমি বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগে বিভক্ত করেছি।


বুদ্ধিমান ও চালাক চতুর ক্ষেত্রে : প্রাণীকূলের মধ্যে এমন কিছু প্রাণী আছে যারা বুদ্ধিগুনে চতুর চালাক। বলা হয় প্রকৃতি হলো মানুষের শিক্ষক। এখান থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা অর্জন করে মানুষ। এই চালাক চতুর প্রাণীর মধ্যে রয়েছে-শিয়াল। যদিও প্রত্যেক প্রানী তার জীবন চলার মধ্যে বুদ্ধি খাটিয়ে থাকে। তারপরেও শিয়ালকেই প্রাকৃতিক পন্ডিত বলে ধরা হয়েছে। এই শিয়ালের বুদ্ধিমত্তা ও চালাক চতুরতার সাথে মিল রয়েছে মানুষেরও। অনেকে কাক-শিয়ালের গল্প পড়েছেন। জেনেছেন হাসের বাচ্চা কে কিভাবে শিয়াল শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে গ্রাস করে। এরকম শিয়ালরূপী মানুষ রয়েছে যাদের উপমা বা প্রবাদে বলা হয়ে-শিয়ালের কাছে মুরগী আদি দেওয়া।


সাহসী ও হিংস্রতা : প্রাণীকূলের মধ্যে অত্যাধিক সাহসী ও হিংস্র প্রাণী হলো বাঘ ও সিংহ। যারা বনের রাজা বলে পরিচিত। জঙ্গলের এরাই প্রধান। তারা ইচ্ছে করলেই নিরীহ প্রাণীদের শিকার করে খেতে পারবে । কিন্তু বিচার হবে না। বনের হরিণ,খরগোশ,ছাগল,গরু,মহিষ এরকম শ্রেণীর প্রাণীদের এই বনপ্রধান শিকার করে গলধকরণ করে। এদের আচরণের সাথে সাহসিকতার হুবুহু মিল রয়েছে মানুষের সাথেও। মুসলিম ইতিহাসে হযরত মুহম্মদ (সা.) যামানায় সাহাবী হযরত আলী (রা.)কে বাঘের সাথে তুলনা করা হতো। আসাদুল্লাহ্ বা আল্লাহর বাঘ। বাংলাদেশের কিছু কিছু ব্যাক্তি ও সংগঠনকেও বাঘ বলে নামডাক শুনা যায়। ক্রিকেটে টাইগাররাশেরে বাংলা ফজলুল হকে ‌বাংলার বাঘখেতাব দেওয়া হয়েছে। এই খেতাবের কারণ কি? কারণ সাহস! আর দ্বিতীয় হিংস্রতার দিক থেকে এসব প্রাণীদের চেয়েও ভয়ংকর। খুন-ধর্ষণ,অপহরণ চিত্রগুলো দেখলে যে কেউ মিলিয়ে দেখতে পারবেন মানুষের সাথে এই সাহসি ও হিংস্র প্রাণীদের মিল কোথায়?



বোকা ও নিরীহ : প্রানীকুলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর বোকা প্রাণী। যারা অন্যের অধিনে কাজ করে যায়। হুকুমে তালিম করে। এই শ্রেনীর প্রাণীরা রয়েছে-গাধা,ঘোড়া ও হাতি। এরা হৃষ্টপিষ্ঠ হলেও মাথা নেই নেই কোন বুদ্ধি। তাই মালিকের দেওয়া নানা চাপ তারা নির্দ্বিধায় পালন করে থাকে। ঠিক এরুপ প্রাণীর মতো রয়েছে আমাদের পৃথিবীতে দাসপ্রথা বলে যেটা জানি। যারা দাসের শিকার হোন তারাই হোন এই শ্রেনীর প্রাণীদের মতোই। এটা এমন হতে বিভিন্ন চাকরি,দিনমুজুরীর ক্ষেত্রেও। এদের উপর মালিক পক্ষ অযাচিত্র অত্যাচার,নির্যাতন চালালেও তারা কর্ম হারানোর ভয়ে মাথা নিচু করে কাজ করে যায়।